হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও সিসিটিভি ফুটেজে যা মিলেছে

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও সিসিটিভি ফুটেজে যা মিলেছে

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর তুলনামূলক ফাঁকা পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই শোনা যায় ‘বাঁচাও, বাঁচাও’—ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে আসছিল সেই আর্তচিৎকার। রিকশাটি থামানো হলে দেখা যায়, এক ব্যক্তির মাথা ও কান থেকে রক্ত ঝরছে।

আজ দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ওই সড়কে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলি লাগায় তাঁকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ওসমান হাদি গত বছর গণ–অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তিনি ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাজ্জাদ খান প্রথম আলোকে জানান, জুমার নামাজ শেষে তিনি বাইতুস সালাহ জামে মসজিদের বিপরীতে ডক্টর টাওয়ারের সামনে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ফকিরাপুল দিক থেকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে বিজয়নগরের দিকে যাচ্ছিলেন ওসমান হাদি। রিকশায় তাঁর পাশে আরেকজন বসা ছিলেন।

সাজ্জাদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রিকশাটিকে অনুসরণ করছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তির গায়ে কালো চাদর ছিল, যা দিয়ে তাঁর হাত ঢাকা ছিল। রিকশার কাছাকাছি এলে ওই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তাঁরা বিজয়নগরের দিকে পালিয়ে যান।

গুলির শব্দে চারপাশের মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। আহত হাদি চিৎকার করতে থাকেন। রিকশা থামানো হলে দেখা যায়, তাঁর মাথা ও কান থেকে রক্ত ঝরছে। পাশে বসা ব্যক্তি তাঁকে ধরে রাখেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর পুলিশ, র‍্যাব, সিআইডি, পিবিআই ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ডক্টর টাওয়ারসহ আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে পেছন থেকে রিকশাটিকে অনুসরণ করছেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি রিকশার সমান্তরালে এলে পেছনে বসা ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান।

বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় রক্তের দাগ ছড়িয়ে আছে। সিআইডির অপরাধ শনাক্তকরণ দল হলুদ ফিতা দিয়ে এলাকা ঘিরে রেখেছে। সিআইডির পরিদর্শক আবদুর রশীদ জানান, ঘটনাস্থলের তিনটি স্থান থেকে রক্তের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

মতিঝিল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ ফারাবী বলেন, একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তবে কারা এবং কী কারণে ওসমান হাদিকে গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ