৮২ রানে অ্যাডিলেড টেস্টের সাথে ১১ দিনেই অ্যাশেজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

৮২ রানে অ্যাডিলেড টেস্টের সাথে ১১ দিনেই অ্যাশেজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

ইংল্যান্ডের ইনিংসের ৯৭তম ওভারের শেষ বল। স্কট বোল্যান্ডের লেগ স্টাম্পে করা ডেলিভারিটি ফ্লিক করে বাউন্ডারিতে পাঠালেন ব্রাইডন কার্স। এই চারে কোনো ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি, দলীয় রানও পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছায়নি। তবু অ্যাডিলেডের গ্যালারিতে হঠাৎ করেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। করতালি, উল্লাস আর ব্যান্ডের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ—কারণ জয়ের লক্ষ্য নেমে এসেছে এক শ’র নিচে।

দিনের শুরুতে ইংল্যান্ড ছিল ২২৮ রান পিছিয়ে, হাতে মাত্র চার উইকেট। টেস্টের পঞ্চম দিনে সেই সমীকরণ প্রায় অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কার্সের ওই বাউন্ডারির পর, তিন উইকেট হাতে থাকতেই, সমর্থকেরা যেন অল্প সময়ের জন্য হলেও আশা দেখতে শুরু করেছিলেন।

সে আশা টিকল মিনিটখানেক। পরের ওভারে মিচেল স্টার্কের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ক্যাচে ধরা পড়লেন উইল জ্যাকস। সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে যে প্রতিরোধ তিনি গড়ে তুলেছিলেন, সেখানেই তার সমাপ্তি। এরপর আর দেরি হয়নি—বাকি দুই উইকেটও দ্রুত তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫২ রানে গুটিয়ে দিয়ে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জেতে ৮২ রানে। এই জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয় টেস্ট জিতে ৩–০ ব্যবধানে অ্যাশেজ নিজেদের দখলে রাখে স্বাগতিকরা। মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সিরিজ—অ্যাশেজ ইতিহাসে এত কম সময়ে সিরিজ নিষ্পত্তির ঘটনা এর আগে ঘটেছে মাত্র একবার।

পার্থে দুই দিনে এবং ব্রিসবেনে চার দিনে হেরে যাওয়ার পর অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল বিশাল ৪৩৫ রান। চতুর্থ দিনেই সেই লক্ষ্য প্রায় অসম্ভব করে তোলে তারা—৬৩ ওভারে ২০৭ রান তুলতেই হারায় ৬ উইকেট। ফলে পঞ্চম দিনে শেষ চার উইকেট নিয়ে কতটা লড়াই সম্ভব, তা নিয়ে ছিল সংশয়।

তবে শেষ দিনে জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকসের সপ্তম উইকেট জুটি কিছুটা হলেও লড়াইয়ের রসদ জুগিয়েছে। দুই রানে অপরাজিত থেকে নামা স্মিথ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। নাথান লায়ন ও ক্যামেরন গ্রিনকে ছক্কা মারেন তিনি। পরে প্যাট কামিন্সকে টানা দুই চার মেরে তুলে নেন ফিফটি। পরের ওভারে স্টার্ককেও টানা দুই চার মারেন। তবে বাউন্ডারির হ্যাটট্রিক করতে গিয়ে মিড-অনে কামিন্সের হাতে ক্যাচ দেন স্মিথ (৮৩ বলে ৬০ রান)।

দিনের প্রথম সেশনে ইংল্যান্ড হারায় শুধু স্মিথের উইকেট। অষ্টম উইকেটে কার্সকে সঙ্গে নিয়ে জ্যাকস আবারও জয়ের লক্ষ্য এক শ’র নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্টার্কের আরেক আঘাতে থেমে যায় সে আশা। আগের দিন ৩১ বল খেলা জ্যাকস আজ খেলেছেন আরও ১০৬ বল। ফেরার সময় তাঁর সংগ্রহ ছিল ৪৭ রান।

ইংল্যান্ডের শেষ দুই উইকেটের একটি নেন স্টার্ক, অন্যটি বোল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে স্টার্ক, কামিন্স ও নাথান লায়ন—তিনজনই নেন তিনটি করে উইকেট। তবে লায়নের জন্য সিরিজটা হয়তো এখানেই শেষ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে প্রথম সেশনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।

লায়নের চোটের দুঃসংবাদ বাদ দিলে অ্যাডিলেড ছাড়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার জন্য ছিল পূর্ণ উৎসবের উপলক্ষ। ২০০২–০৩ মৌসুমে মাত্র ১১ দিনে ইংল্যান্ডকে অ্যাশেজ হারিয়েছিল স্টিভ ওয়াহর দল। দুই দশকের বেশি সময় পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসাল প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া (যদিও প্রথম দুই টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন স্টিভেন স্মিথ)।

এবারের অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর, মেলবোর্নে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ৩৭১ ও ৩৪৯ (হেড ১৭০, ক্যারি ৭২; টাং ৪/৭০, কার্স ৩/৮০)। ইংল্যান্ড: ২৮৬ ও ৩৫২ (ক্রলি ৮৫, স্মিথ ৬০; কামিন্স ৩/৪৮, স্টার্ক ৩/৬২)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: অ্যালেক্স ক্যারি। সিরিজ: ৫ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে।

সর্বশেষ সংবাদ