মায়ের কবরে শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিম

মায়ের কবরে শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিম

অনলাইন ডেক্স : বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় বনানী কবরস্থান মসজিদে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মাতা আমেনা মনসুরের কবরে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা শেষে মরহুমের প্রতি ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আজ রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী কবরস্থান মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও অন্যান্যরা মোহাম্মদ নাসিমকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। পরে তাকে মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি শ্রদ্ধা নিেেবদন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তর, কেন্দ্রীয় ১৪ দল, আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নাসিমকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ সময় উপস্থিত হন।

এ সময় মোহাম্মদ নাসিমের বড় ছেলে তানভীর শাকিল জয়সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি থাকায় সীমিত সংখ্যক মানুষকে কবরস্থানে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সোবহানবাগ মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দাফনের আগে তানভীর শাকিল জয় মোহাম্মদ নাসিমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

শনিবার বেলা ১১ টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন মোহাম্মদ নাসিম। মৃত্যুকালে মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী, আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ নাসিম। তার পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। যিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আ¤্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জাতীয় ৪ নেতার অন্যতম এম মনসুর আলী ৩ নভেম্বর জেলখানায় ঘাতকদের হাতে নিহত হন।

মোহাম্মদ নাসিমের মায়ের নাম মোসাম্মৎ আমিনা খাতুন, যিনি আমেনা মনসুর হিসেবেই পরিচিত। তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন। মোহাম্মদ নাসিম তিন সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম লায়লা আরজুমান্দ। মোহাম্মদ নাসিম জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নাসিম। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি ১৪ দলীয় মহাজোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। ঢাকাসহ নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। বাসস

সর্বশেষ সংবাদ