বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেক্স :মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ থামাতে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।

সংকট সমাধানে নীরব থাকায় সমালোচিত হচ্ছিলেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, দাঙ্গা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও বর্বরতা বন্ধে আমি হাজার হাজার সশস্ত্র সৈন্য ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের পাঠাচ্ছি।

তিনি ওয়াশিংটনের আগের রাতের বিক্ষোভের সমালোচনা করে গর্ভণদের প্রতি দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কোন রাজ্য সরকার ব্যর্থ হলে আমি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সেনা মোতায়েন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান করবো।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে মিনেপোলিসে শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড(৪৬) নামের নিরস্ত্র এক কৃষাঙ্গ প্রাণ হারালে তা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। হত্যাকান্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে। এমনকি হোয়াইট হাউসের কাছেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে ট্রাম্পের নিরাপত্তায় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাকে আন্ডারগ্রউন্ডের বাংকারে নিয়ে যান।

এদিকে দাঙ্গা রোধে নিউইয়র্কসহ ৪০টিরও বেশি শহরে কারফিউ জারি করা হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মিনেপোলিসের পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চওভিন ফ্লয়েডের গলায় নয় মিনিট হাঁটু চেপে ধরে রাখেন। এতে ফ্লয়েড দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। চওভিনের বিরুদ্ধে

হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরই বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে মানুষ। দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫টিরও বেশি শহর এখন বিক্ষোভে উত্তাল।

কারফিউ জারি এবং ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

অবস্থা বিবেচনায় অনেকে একে ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিংয়ের খুনের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার সঙ্গে তুলনা করছেন।

এদিকে ট্রাম্প অধিকাংশ সময় হোয়াইট হাউসের ভেতরেই অবস্থান করছেন। কিন্তু তিনি টুইট করে করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সংবাদ মাধ্যমের তীব্র সমালোচনা এবং উস্কানিমূলক কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, লুটপাট চললে গুলিও চলবে। এতে বিক্ষোভকারীরা আরো বেশি ফুঁসে ওঠে।

ইলিনয়ের গভর্ণর জে বি প্রিজকার বলেছেন, প্রেসিডেন্টের উস্কানিমূলক কথাবার্তার কারণে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন।

সর্বশেষ সংবাদ